শিল্পী, শিল্প এবং একটি অনুভূতি
আজ সকালে ভার্সিটির সামনের রাস্তায় দাড়িয়ে আছি, দেখি একজন লোক (দীর্ঘকায় এবং কাচাপাকা চুল বিশিষ্ট) খুব মনযোগের সাথে তার মটর সাইকেল (ভেসপা) এর স্পার্ক প্লাগ পরিস্কার করছে। কাছে গেলাম, কি প্রানন্তকর চেষ্টা। কিক দিয়েই যাচ্ছেন। একসময় ক্লান্ত হলেন, মনে হল হাল ছেড়ে দিবেন। আমি এগিয়ে গেলাম দেখি কিছু করা যায় কিনা। তো আমি যখন স্পার্ক প্লাগ পরিস্কার করছি তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন যে বাবা তুমি কি কর? আমি বললাম এই তো পড়াশুনা করি। আরও অনেক প্রশ্ন করলেন। আমাকে দেখে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো এক গাড়ীর ড্রাইভার নেমে এসে আমার সাথে হাত লাগালো। আমি আংকেলকে জিজ্ঞাসা করলাম কি করেন। তিনি বললেন এই তো চাকরি করতাম, ২ বছর হল অবসর নিয়েছি। জিজ্ঞাসা করলাম কি চাকরি করতেন? দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন আমি যে চাকরি করতাম তার সাথে আমার কর্মের সাথে কোন মিল নেই। আমি আর কিচু বললাম না। এর মধ্যে তার মটর সাইকেল ঠিক হয়ে গিয়েছিলো। আমি শেষ চেষ্টা করলাম, জিজ্ঞেস করলাম আপনার আপনি আসলে কে? তিনি বললেন আমি পেশায় ছিলাম একজন করনিক। কিন্ত আমি ব্যাক্তিগত জীবনে একজন পেইন্টার, আমার নাম আব্দুর রউফ। আমি এবার ভাল করে তাকালাম তার দিকে। তিনি বললেন, লাল সালু’র প্রচ্ছদ টি আমারই করা। জিজ্ঞেস করলাম এখন কি করছেন? বললেন, কিছু না। তারপর আর কথা না বাড়িয়ে চলে গেলেন।
আমি ব্যাক্তিগত জীবনে ক্রিয়েটিভ কাজের সাথে যুক্ত মানুষদের খুবই পচ্ছন্দ করি, শ্রদ্ধা করি তার শিল্পস্বত্তাকে। আজ আব্দুর রউফ কে দেখে মনে হল জীবন বড়ই কঠিন, তার চেয়েও কঠিন বাস্তবতা।
February 3rd, 2008 at 8:20 pm
জীবনের কোন মানে আজও খোঁজ পেলাম না। পৃথিবীতে সম্পদের পূর্ণ অসামঞ্জস্য বন্টন! জানিনা কিভাবে দরিদ্রতা নজরুলকে মহান করেছে!
June 23rd, 2008 at 11:25 pm
sobai by born lucky hoy na. manus k DURGA’r moto dosh hate sob maintain korte hoy! kono ak hat bondho thakle hoy atta kosto pay, noy sorir..etai hoyto manus hoar jontrona!!