কেন যে এমন হয়…
সকাল বেলা ভার্সিটির অফিসে যেতে হবে তাই সেইরকম একটা সিরিয়াসনেস নিয়ে রাতে ঘুমাতে যাব কিন্তু যা হয় আরকি, অথর্হীন কিছু কাজ করতে করতে যখন ঘুমাতে গেলাম তখন বাজে রাত প্রায় ৪টা। যাই হোক মোবাইলে ঠিক ভোর ৮:৩০ এ এলার্ম দিয়ে ঘুমালাম। ভোরে (এটাকে ঠিক ভোর বলা চলে না মনে হয়) উঠে দেখি যে বাজে বেলা ১১:৩০, যাহ বাবা আমার এত সিরিয়াসনেস কোন কাজ হল না? মোবাইলটা ধরলাম যে এলার্ম আসলেই বেজেছিল কিনা, কিন্তু হায় এলার্ম তো আসলেই বেজেছিল। তাহলে আমি কি করছিলাম? তখন মনে হল সকাল বেলা যে মিউজিক শুনে পরম আবেশে অন্যপাশ হয়ে শুয়েছিলাম সেটা ছিল এলার্ম এর শব্দ। সাথে সাথে একটু দুঃখ পেলাম এই ভেবে যে আমি মনেহয় সারাজীবনই এরকম লেট লতিফ হয়ে থাকব। তারাতারি উঠে ফ্রেস হয়ে টলতে টলতে বের হলাম ভার্সিটি অফিসের উদ্দেশ্যে। কাজ শেষ করতে করতে দুপুর একটা। রাস্তায় এসে এবার শুরু করলাম সিএনজি খোজা। এই এক মহা যন্ত্রনার কাজ। প্রত্যেক সিএনজিওয়ালা কে দেখলেই মনে হয় যে তারা সবসময় রেডি হয়ে আছে কোথাও না যাবার জন্য। কারন আজ পযর্ন্ত যত সিএনজিওয়ালা দেখলাম তাদের কেউই একবারে রাজি হয়নি কোথাও যেতে। হয়তো জিজ্ঞাসা করলাম “ভাই যাবেন নাকি?” উনি প্রথমেই যেটা বলবেন সেটা হল যাবনা। তারপর হয়তো আমি জোর করে বললাম যে আমি অমুক জায়গায় যাবো তখন হয়তো বলবে যে যেতে পারি ১০ টাকা বেশি দিতে হবে। এরকমও কম বলে কারন কোথাও যেতে চাইলে ৮০ টাকার ভাড়া ১২০ টাকা চাইবেই এবং এটা আমি স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছি। যাই হোক আজ কিছুক্ষন সেই স্বাভাবিক ব্যাপারগূলো ঘটার পরে একটা সিএনজি পাওয়া গেলো যিনি মিটারে ছাড়া যাবেন না এবং গন্তব্যে যাবার পরে স্বাভাবিক ভাবে ১০টাকা বেশী দিতে হবে। আমি তো খুশী মনে উঠে পরলাম। বিজয় স্মরণী যাবার পরেও দেখি মিটারে ১৪টাকা উঠে রয়েছে। সিএনজিওয়ালা আংকেল (একটু বয়সী বলে আংকেল বললাম)এটা এতক্ষন মনেহয় খেয়াল করেননি, এবার সিএনজি থামিয়ে কিছুক্ষন মিটার ঠিক করার চেষ্টা করলেন শেষে ব্যার্থ হয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। গন্তব্যে পৌছানোর পরে তো আমার পালা। আমি আংকেলকে জিজ্ঞাসা করলাম যে এখন ১০টাকা বেশি দিলে আপনার কি চলবে? উনি বললেন তা বাবা না দিলেও ক্ষতি নাই। আমি আর কথা বাড়ালাম না, ন্যায্য ভাড়াই দিলাম। কারন ওনাকে কেন জানি ভাল লেগেছিল মনে হয় আমার পরিচিত কারও চেহারার সাথে মিল আছে সেই জন্য। এরকম আমার মাঝে-মধ্যেই হয় যে কারও সাথে দেখা হল হঠাৎ করে মনে হল যে আরে এনার চেহারা, কথা বলা বা হাটার ভঙ্গি তো আমার পরিচিত ওনার মতন। ঠিক তখন থেকে তার প্রতি সেইরকম টান বা ভালবাসা অনুভব করি যেমন করি তার সাথে মিল পাওয়া আমার পরিচিত মানুষটার প্রতি। আজ অবশ্য অনেক চেষ্টা করেও বের করতে পারিনি যে কার সাথে ওই সিএনজিয়ালার চেহারার মিল আছে। কেন যে এমন হয় কে জানে…..
August 26th, 2008 at 5:03 pm
কোনকিছুই যেন আমাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আসলে আমাদের নিয়ন্ত্রণে যেন কিছুই থাকে না। তাই না?